নিজস্ব প্রতিবেদক:
ফরিদপুর জেলায় হামের সংক্রমণ এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৬ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলায় মোট ২ হাজার ৪২২ জন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৩২ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদপুর জেলার ২০ জন এবং অন্যান্য জেলার ১২ জন রোগী রয়েছেন। তবে এ সময়ে নতুন কোনো রোগী নিশ্চিত হয়নি এবং নতুন মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি।
উপজেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, আলফাডাঙ্গায় ২১ জন, বোয়ালমারীতে ২৩ জন, ভাঙ্গায় ১২ জন, চরভদ্রাসনে ১৭ জন, নগরকান্দায় ২ জন, মধুখালীতে ৬ জন, সদরপুরে ১৪ জন, সালথায় ২২ জন এবং ফরিদপুর সদরে ৫ জন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে জেলার দুটি প্রধান হাসপাতালে বর্তমানে ১৮২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৪৫ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৩৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে ২৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে দুই হাসপাতাল থেকে মোট ২৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি কিংবা হামের অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের নিয়ে আসা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে হামের সংক্রমণ ও জটিলতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।