৫৫ বছর ধরে একসঙ্গে ব্যবসা, এক ছাদের নিচে ৩০ সদস্য: বোয়ালমারীতে যৌথ পরিবারের অনন্য দৃষ্টান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঠাকুরপুর গ্রামে সময়ের পরিবর্তনের মধ্যেও টিকে আছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী যৌথ পরিবারের উদাহরণ। মৃত ষষ্ঠী চরণ পালের ছয় ছেলে প্রায় ৫৫ বছর ধরে একসঙ্গে পরিচালনা করছেন ‘মহামায়া ভাণ্ডার’ নামে একটি মুদির দোকান। একই সঙ্গে তারা প্রায় ৩০ সদস্যের পরিবার নিয়ে একই ছাদের নিচে বসবাস করছেন এবং প্রতিদিন একসঙ্গেই রান্না ও খাবারের আয়োজন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া ষষ্ঠী চরণ পাল একসময় মাটির হাঁড়ি-পাতিল তৈরি ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরবর্তীতে সন্তানদের বিকল্প পেশায় প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে বোয়ালমারী বাজারে স্ত্রীর নামে ‘মহামায়া ভাণ্ডার’ প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে ব্যবসা সীমিত পরিসরে চললেও সময়ের সঙ্গে সেটিই পরিবারের প্রধান আয়ের উৎসে পরিণত হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৯৯৭ সালের ১৪ এপ্রিল মৃত্যুর আগে ষষ্ঠী চরণ পাল তার ছেলেদের একসঙ্গে থাকার নির্দেশ দিয়ে যান। বাবার সেই ইচ্ছাকেই দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেন ছয় ভাই। এরপর থেকে তারা পারিবারিক ঐক্য বজায় রেখে সম্মিলিতভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দোকানের কার্যক্রমে প্রত্যেক ভাইয়ের নির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। কেউ পণ্য তোলার কাজ করছেন, কেউ বিক্রয় কার্যক্রম সামলাচ্ছেন, আবার কেউ হিসাব-নিকাশের দায়িত্ব পালন করছেন। পারিবারিক ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে পারস্পরিক সমন্বয়ের বিষয়টিও চোখে পড়ে।
দোকানের কর্মচারী রনজিৎ কুমার বলেন, “এখানে কাজের পরিবেশ ভালো। ভাইদের মধ্যে বোঝাপড়া রয়েছে এবং সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করেন।”
নিয়মিত ক্রেতা ও ব্যাংকার মোহাম্মদ শামীম প্রধান বলেন, বর্তমানে যৌথ পরিবার ক্রমেই কমে যাচ্ছে। সেই বাস্তবতায় মহামায়া ভাণ্ডারের ছয় ভাই একসঙ্গে ব্যবসা ও পরিবার পরিচালনার মাধ্যমে একটি ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পারিবারিক ঐক্য, সততা ও দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পর্কের কারণে ‘মহামায়া ভাণ্ডার’ শুধু একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এলাকায় পারিবারিক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে।