৩৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চলতি অর্থবছরের ১১তম বৈঠকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণ প্রকল্পসহ মোট ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। দীর্ঘদিনের পানি সংকট, নদীভাঙন, কৃষি উৎপাদন হ্রাস এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলের নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য। পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নদীভাঙন কমানো এবং কৃষি ও মৎস্যসম্পদ রক্ষার বিষয়টিও প্রকল্পের আওতায় গুরুত্ব পেয়েছে।
পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের দাবি নতুন নয়। ১৯৬০-এর দশক থেকেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় জনগণ। পরে ১৯৭৫ সালে ভারতে ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দেয়। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু শাখা নদী শুকিয়ে যায় বা নাব্যতা হারায় বলে পানি বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে মত দিয়ে আসছেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ বিএনপির অন্যতম অঙ্গীকার ছিল। সরকার গঠনের পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই, কারিগরি মূল্যায়ন ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের কাজ সম্পন্ন করা হয়। একনেক সভায় অনুমোদনের মধ্য দিয়ে এখন প্রকল্প বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
একনেক বৈঠকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ, পানি ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রকল্পও রয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। তবে ব্যয়ের পরিমাণ ও সম্ভাব্য প্রভাবের দিক থেকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় পরিবেশগত প্রভাব, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং স্থানীয় জনগণের জীবন-জীবিকার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা ও পানিবণ্টন সম্পর্কিত কূটনৈতিক দিকগুলোও বিবেচনায় রাখা হবে।