নিজস্ব প্রতিবেদক
ফরিদপুরে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমেই বাড়ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩৬ জনে। একই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৫ জন। বর্তমানে দুই হাসপাতালে মোট ১৫০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯২ জন এবং জেনারেল হাসপাতালে ৫৮ জন ভর্তি আছেন।
উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে সালথা উপজেলায়, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ২২ জন। এছাড়া বোয়ালমারী ও সদরপুরে ১৪ জন করে, আলফাডাঙ্গা ও ভাঙ্গায় ১২ জন করে, চরভদ্রাসনে ৬ জন, ফরিদপুর সদরে ৫ জন, মধুখালীতে ৩ জন এবং নগরকান্দায় ২ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট ৭৪০ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৩০৬ জন হাম রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাসপাতাল থেকে মোট ৫৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এর মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ৩৮ জন এবং জেনারেল হাসপাতাল থেকে ১৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজনের নমুনায় হাম পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ফরিদপুর জেলার বাইরের কয়েকজন রোগীও রয়েছেন। প্রতিবেদনে গোপালগঞ্জ, মাগুরা, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও যশোর জেলার রোগীদের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি জ্বর, সর্দি, কাশি বা শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।