সোমবার ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নগরকান্দায় এক কিলোমিটার কাঁচা সড়কের দুর্ভোগে বন্দী শতাধিক পরিবার, বর্ষায় থমকে যায় জনজীবন

 

শেখ হাচান 

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়নের বনগ্রাম বাজার থেকে মেহেরদিয়া মাঠ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন শতাধিক পরিবারের মানুষ। বর্ষা এলেই সড়কটি কাদার স্তূপে পরিণত হয়, আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালিতে চলাচল হয়ে ওঠে কষ্টসাধ্য। প্রতিদিন এই পথ পাড়ি দিতে গিয়ে শিক্ষার্থী, কৃষক, কর্মজীবী মানুষ, নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের সীমাহীন ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, পুরাপাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বনগ্রাম বাজার থেকে মেহেরদিয়া মাঠ পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কটি বছরের পর বছর কাঁচাই রয়ে গেছে। বর্ষার বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান কাদা জমে যাওয়ায় মোটরসাইকেল, ভ্যান, অটোরিকশাসহ কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। অনেক সময় পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে।

 

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে গিয়ে অনেকেই পিছলে পড়ে আহত হচ্ছে। কর্মজীবী মানুষ সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না। বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য এই সড়ক যেন প্রতিদিনের এক কঠিন পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

 

কৃষকদেরও ভোগান্তি কম নয়। ধান, পাট, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য মাঠ থেকে বাজারে নিতে অতিরিক্ত সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। যানবাহন চলাচল করতে না পারায় অনেক সময় মাথায় বা কাঁধে করে কৃষিপণ্য বহন করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং লাভ কমে যাচ্ছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও এই সড়ক ব্যবহার করতে পারে না। ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে কাদার মধ্যে বহন করে মূল সড়কে নিতে হয়, যা সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মশিউর রহমান বলেন, “বর্ষা এলেই রাস্তাটি প্রায় অচল হয়ে যায়। অন্তত ইট বিছিয়ে সাময়িকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হলেও মানুষের কষ্ট অনেকটা কমত। আমরা দ্রুত সড়কটি উন্নয়নের উদ্যোগ চাই।”

 

৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম বলেন, সড়কটি ইউনিয়ন পরিষদের নয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশা করা হচ্ছে।

 

পুরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান (বাবু ফকির) বলেন, মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি তাদের জানা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে সড়কটির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

 

নগরকান্দা উপজেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী খন্দকার রাহাত ফেরদৌস বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা লিখিত আবেদন করলে সরেজমিনে তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব পাঠানো হবে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ ও এলজিইডির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।