ফরিদপুরে গট্টি ইউনিয়নে সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ জন কারাগারে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নে চলমান দাঙ্গা, সংঘর্ষ ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৮ মে) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনার পর তাদের আটক করা হয়। পরে শনিবার (৯ মে) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিরা উপজেলার আড়ুয়াকান্দী, বালিয়া গট্টি, দোহার গট্টি, কাঠিয়ার গট্টি ও মীরের গট্টি এলাকার বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গট্টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কয়েকদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ একাধিক এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে আড়ুয়াকান্দী গ্রামের আজিজুল খান, আব্দুল হক ও রহমান মাতুব্বর ওরফে রব্বান মাতুব্বর, বালিয়া গট্টি এলাকার রিয়াজ শেখ ও জাহিদ মোল্যা, দোহার গট্টি এলাকার লাবলু মাতুব্বর ও টুকু মিয়া, কাঠিয়ার গট্টি এলাকার ইশারত শরীফ, বাদশা মাতুব্বরের ছেলে সুমন মাতুব্বর এবং মীরের গট্টি এলাকার সোহেল শেখকে আটক করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ইউপি সদস্য নুরু মাতুব্বর এবং বালিয়া গট্টি গ্রামের জাহিদ মাতুব্বরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে তাদের সমর্থকদের মধ্যেও একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে অন্তত ১০ দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এসব ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন। পাশাপাশি কয়েকশ বসতবাড়িতে ভাঙচুর এবং কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগও রয়েছে।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে হামলা-পাল্টা হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও জানান, আটক ১০ জনকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।