সোমবার ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিয়ের প্রলোভনে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী কে নিঃস্ব করার অভিযোগ:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ফরিদপুরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার শালিস বৈঠক

 

 

প্রেম ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকার এক গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে নিঃস্ব ও প্রতারিত করার অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুরের এক তরুণীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী তাঁর জমানো সমস্ত সঞ্চয় হারিয়ে বর্তমানে পথে বসার উপক্রম হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

 

গত ১৬ই জুলাই ২০২৬ইং, বিকাল ৩.০০ ঘটিকায় ফরিদপুর জেলা জজকোর্ট পৌর মার্কেটের ২য় তলায় জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী এ্যাডভোকেট বাবু অনিমেষ রায়ের চেম্বারে বিষয়টি নিয়ে এক শালিসী আপোষ-মিমাংসা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থা’ ফরিদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

 

ঘটনার বিবরণ ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি:

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার বিভিন্ন গার্মেন্টসের লট মালের ব্যবসায়ী মোখলেছুর রহমান সুমনের (৩৮) সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে পরিচয় হয় ফরিদপুরের মধুখালী থানার ছকড়ি কান্দী গ্রামের খাদিজা সুলতানার (২১)। পরিচয়ের পর থেকেই খাদিজা তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং বিয়ের আশ্বাস দেয়।

 

এক পর্যায়ে ২০২৪ সালের ২১শে এপ্রিল তারা গোপনে দেখা করতে শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুলাই মাস হতে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত তারা ঢাকার মিরপুরে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে একত্রে বসবাস শুরু করেন।

 

ভুক্তভোগী মোখলেছুর রহমানের দাবি, মিরপুরে একত্রে থাকাকালীন সময়ে খাদিজা বাবার অসুস্থতা এবং নিজের লেখাপড়ার খরচের কথা বলে বিভিন্ন দফায় তাঁর কাছ থেকে নগদ ৮ লাখ টাকা ধার নেন। এছাড়া বিয়ের গহনা বানানোর কথা বলে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেন। টাকা ও গহনা নেওয়ার পর থেকেই খাদিজা তাঁর সাথে প্রতারণা শুরু করেন।

 

শালিস বৈঠক ও বিবাদীর অসন্তোষ:

উক্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আয়োজিত শালিসী বৈঠকে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— এ্যাডভোকেট বাবু অনিমেষ রায়, এ্যাডভোকেট মমতা পাল, এ্যাডভোকেট রাশেদা আক্তার জেসমিন, এ্যাডভোকেট জামাদ হাওলাদার, এ্যাডভোকেট মোঃ জলিল চাঁন, এ্যাডভোকেট মোঃ আওয়াল সরদার এবং কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা মোঃ স্বপন।

 

তবে শালিসী বৈঠক শেষে মোখলেছুর রহমান সুমন সাংবাদিকদের নিকট তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “এই শালিসী আপোষ-মিমাংসা সম্পূর্ণ একতরফা ও পক্ষপাতদুষ্ট হয়েছে। বিচারক মন্ডলীর নিকট আমার দাবি ছিল প্রতারক খাদিজার কাছ থেকে আমার কষ্টার্জিত টাকা ও গহনা উদ্ধার করে দেওয়া। কিন্তু তাঁরা আমার কোনো কথাই আমলে নেননি।”

 

তিনি আরও দাবি করেন, খাদিজা সুলতানা তাঁর বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ এনে সামাজিকভাবে তাঁর চরম মানহানি করেছেন। এই প্রতারণার বিরুদ্ধে তিনি পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।