শনিবার ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৫-এর পর নারীদের হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

৩৫-এর পর নারীদের হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

নিউজ ডেস্ক:

৩৫ বছর বয়সের পর নারীদের শরীরে ধীরে ধীরে হাড়ের ঘনত্ব কমতে শুরু করে, যা দীর্ঘমেয়াদে অস্টিওপোরোসিসসহ বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শুরুতে এ পরিবর্তনের তেমন কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ না থাকায় অধিকাংশ নারী বিষয়টি বুঝতে পারেন না। ফলে সময়মতো সচেতনতা ও চিকিৎসার অভাবে পরবর্তী সময়ে হাড় ভাঙা বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, নারীদের শরীরে হাড়ের সর্বোচ্চ শক্তি বা ‘পিক বোন মাস’ সাধারণত ২০-এর শেষভাগ থেকে ৩০-এর শুরুর দিকে পৌঁছায়। এরপর ধীরে ধীরে নতুন হাড় তৈরির চেয়ে হাড় ক্ষয়ের হার বেড়ে যায়। ডা. ললিত নেমিচাঁদ বাফনা বলেন, ৩০-এর দশকে অনেক নারী হাড়ের স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেন না। অথচ ৩৫ বছরের পর থেকেই শরীরে এমন পরিবর্তন শুরু হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হাড় দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাড় ক্ষয়ের শুরুতে সাধারণত ক্লান্তি বা দৃশ্যমান দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে সময়ের সঙ্গে উচ্চতা কিছুটা কমে যাওয়া, পিঠে ব্যথা বা সামান্য আঘাতেও হাড় ভেঙে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এ সময় পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রেই হাড়ের ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

 

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ–এ প্রকাশিত গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ৪০ বছরের বেশি বয়সী অনেক নারীর ক্ষেত্রে অস্টিওপোরোসিস শনাক্ত হয় হাড় ভাঙার পর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্টিওপোরোসিস শুধু হাড় দুর্বল হওয়ার বিষয় নয়; এটি হাড়ের গঠনগত পরিবর্তনেরও একটি প্রক্রিয়া। এতে হাড়ের ভেতরে ফাঁপা অংশ তৈরি হয়, ফলে হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।

 

নারীদের ক্ষেত্রে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ার পেছনে হরমোনজনিত পরিবর্তন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি, কম শারীরিক পরিশ্রম এবং গর্ভধারণ বা স্তন্যদানের মতো বিষয়গুলো ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমতে শুরু করলে হাড়ের সুরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়ে।

 

বিশেষজ্ঞরা জানান, দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার অভ্যাসও হাড়ের স্বাভাবিক শক্তি ধরে রাখার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম, ওজন বহনের ব্যায়াম এবং স্ট্রেন্থ ট্রেনিংয়ের মতো শরীরচর্চা হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

হাড়ের ঘনত্ব নির্ণয়ে ব্যবহৃত ডেক্সা স্ক্যানকে সহজ ও ব্যথাহীন পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনেক নারী প্রয়োজনীয় সময়ের আগেই এই পরীক্ষা করানোর বিষয়ে সচেতন হন না। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে হাড় ক্ষয় শনাক্ত করা গেলে জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও চিকিৎসার মাধ্যমে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, সময়মতো স্ক্রিনিং এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হাড় ভাঙার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, পর্যাপ্ত ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, প্রতিদিন কিছু সময় রোদে থাকা এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে হাড় ক্ষয়ের গতি ধীর করা সম্ভব। গুরুতর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ বা বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া